নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা চুরির একটি চক্রের মূল হোতা হিসেবে ইউপি সদস্য জামাল হোসেন ওরফে জামাল মেম্বারের নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি চায়ের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে চালকদের অচেতন করে সিএনজি নিয়ে যেত। সম্প্রতি জামাল হোসেনসহ চক্রের ছয় সদস্য গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়েছেন।
চক্রটির কৌশল ছিল, রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে আগে থেকেই কয়েকজন সদস্য অবস্থান নিতেন। কোনো সিএনজি চালক চা খেতে এলে চক্রের একজন চায়ের অর্ডার দিতেন। পরে ভাড়া ঠিক করার কথা বলে আরেক সদস্য চালককে ব্যস্ত রাখার সুযোগে চায়ের মধ্যে চেতনানাশক মিশিয়ে দেওয়া হতো। এরপর প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে চালক অচেতন হয়ে পড়লে সিএনজিটি নিয়ে পালিয়ে যেত চক্রের সদস্যরা।
চক্রটির কবলে পড়ে দুইবার সিএনজি হারিয়েছেন মাহাবুব নামের এক চালক। তিনি জানান, চা খাওয়ার পর এক যাত্রীকে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তার সিএনজি নিয়ে যায় চোরেরা। এর আগে একটি সিএনজি উদ্ধারে তাকে এক লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের কাছে জামাল হোসেন একজন দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। মোড়েলগঞ্জের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তিনি বিভিন্ন সময় মানুষকে আর্থিক সহায়তা দিতেন এবং পরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও হন।
তবে গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাতের বেলায় তিনি সিএনজি চোরচক্রের নেতৃত্ব দিতেন। চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে জামাল হোসেন নিজেও বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।
সিএনজি ছিনতাইয়ের বিষয়ে জামাল হোসেন বলেন, প্রতিটি সিএনজির জন্য তারা সর্বনিম্ন ৪০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা নিতেন। তিনি দাবি করেন, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এ কাজের সঙ্গে জড়িত।
জামাল হোসেন জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে একই কৌশলে তার নিজের অটোরিকশা চুরি হয়েছিল। ওই ঘটনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরে নিজেই একটি চক্র গড়ে তোলেন।
চক্রের সদস্যদের কাজের ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, কাজ শুরুর আগে তাদের চা ও সিগারেট দিতে হতো এবং কাজের জন্য টাকা দেওয়া হতো। কাজ না হলে সেই খরচ তাকেই বহন করতে হতো।
জনপ্রতিনিধি হওয়ার পেছনে চোরাই সিএনজি থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহারের কথাও স্বীকার করেছেন জামাল হোসেন। তার দাবি, ওই অর্থ থেকেই তিনি মানুষের মধ্যে দান-সহায়তা করতেন।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, চক্রটির কর্মকাণ্ডে শুধু সিএনজি চুরি নয়, চালকদের অচেতন হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতো।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ