ব্রেকিং নিউজ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটে আবার ‘আ.লীগ আঁতাত’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আঁতাতের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পরস্পরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ভোট ও সমর্থন কাজে লাগানোর অভিযোগ তুলছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। পাঁচ ধাপে ২৭ মে পর্যন্ত দেশের প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন বিএনপি তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতা থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শরিক দলগুলোর মধ্যে পৃথকভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন আদায়ের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বিএনপির নেতারা অভিযোগ করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনী সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে সমঝোতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তবে বিএনপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে জয়ী হতে বিএনপি আওয়ামী লীগের ভোট চেয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের গোপন যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরাজিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। দলটির নেতারা জামায়াতের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরছেন।

অন্যদিকে, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ করেছেন। দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের বিরুদ্ধে গুম, খুন বা ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ নেই, তাঁদের এনসিপির সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে আইনি বিধিনিষেধও আলোচনার অংশ হয়ে রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা থাকায় ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থী হওয়া এবং দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয় দুটি আলাদাভাবে বিবেচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী কৌশলের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন কোন দল পাবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *