ব্রেকিং নিউজ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জাতীয় নির্বাচন দাবি শেখ হাসিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নতুন করে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। এতে তিনি ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন।

শেখ হাসিনা দাবি করেন, বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তার অভিযোগ, বিচারব্যবস্থাকেও রাজনৈতিক প্রতিশোধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি এবং দলটির লাখ লাখ সমর্থককে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে দেশে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয়। এ কারণে বর্তমান সরকারকে তিনি নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার দাবি, বিএনপি যদি সত্যিই জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করে থাকে, তাহলে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। এরপর সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন আয়োজন করে জনগণকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকেও অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হিসেবে স্বীকার করেননি শেখ হাসিনা। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় ভোটারদের সামনে প্রকৃত রাজনৈতিক বিকল্প ছিল না।

দেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে তার। তবে নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও ফেরার পথ পরে জানানো হবে। দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করার কথাও জানান তিনি।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, অনুপস্থিতিতে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ায় দেওয়া ওই রায়কে ন্যায়বিচার বলা যায় না। দেশে ফিরে তিনি আইনি লড়াই করবেন বলেও জানান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, আগে থেকে ভারত যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না; পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় এবং আরও রক্তপাত ঠেকাতে তিনি নয়াদিল্লিতে চলে যান।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সময় নিয়েও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, ওই সময়ে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তি দুর্বল করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও মূল্যায়ন হিসেবে এসেছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। তার মতে, দুই দেশের ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্ত, নদী, বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই বৈরিতার পরিবর্তে দায়িত্বশীল ও পরিণতভাবে দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালনা করা প্রয়োজন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের পর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা হলে জনগণই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

সুত্রঃ https://sukhabor.com/news-view/4026981e

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *