ব্রেকিং নিউজ
অন্ধ শাহাজান

প্রতিবন্ধকতা জয় করে আত্মমর্যাদার লড়াই, ভিক্ষা নয়—ব্যবসা করেই বাঁচছেন অন্ধ শাহাজান

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

হাত পেতে জীবিকা নির্বাহের পরিবর্তে ব্যবসা করে আত্মমর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন ৫৩ বছর বয়সী বাদশা শাহাজান সেলিম। দৃষ্টিশক্তি হারানোর পাশাপাশি শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েও থেমে যাননি তিনি। সাতক্ষীরা পৌরসভার পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার বাসিন্দা সেলিম পথে পথে ব্রাশ, হাতপাখা ও ক্যালেন্ডার বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

বাদশা শাহাজান সেলিম সাতক্ষীরার পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার জামাত আলী সরদারের ছেলে। ২০০৬ সালের এক সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর জীবনকে বদলে দেয়। ওই দুর্ঘটনায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারানোর পাশাপাশি শারীরিকভাবেও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। জীবনে নেমে আসে নানা সীমাবদ্ধতা। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির কাছে হার না মেনে জীবিকা নির্বাহের পথ খুঁজে নেন তিনি।

সেলিমের জীবনের অন্যতম প্রেরণা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবিকা নির্বাহসংক্রান্ত শিক্ষা। প্রচলিত বর্ণনায় রয়েছে, এক ব্যক্তিকে ভিক্ষা না করে পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জনের পথ দেখানো হয়েছিল। সেই শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সেলিম ব্যবসার পথ বেছে নেন বলে জানা গেছে।

গলায় মাইক ঝুলিয়ে এবং সঙ্গে ব্রাশ, হাতপাখা ও ক্যালেন্ডার নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে পণ্য বিক্রি করেন তিনি। রোদ, ক্লান্তি ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে প্রতিদিনের উপার্জন দিয়ে নিজের জীবন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তবে তাঁর জীবনসংগ্রামের পথ সহজ নয়। নিজের কোনো জমিজমা নেই। ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস করেন তিনি। পরিবারেও রয়েছে আর্থিক সংকট। তাঁর বৃদ্ধা মা-ও প্লাস্টিকের সামগ্রী নিয়ে ফুটপাতে বসে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন।

প্রতিকূলতার মধ্যেও বাদশা শাহাজান সেলিমের এই সংগ্রাম আত্মনির্ভরশীলতার একটি দৃষ্টান্ত। তাঁর জীবনকাহিনি মনে করিয়ে দেয়, শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সুযোগ ও সহায়তা পেলে মানুষ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

সেলিমের মতো মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক সহযোগিতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সহমর্মিতা ও যথাযথ সহায়তা পেলে তাঁর মতো সংগ্রামী মানুষ আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *