নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত এক শিক্ষকের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অনেক বাচ্চাকে আমি চুমা দিয়েছি, তাইলে আমারে মারার সাহস আছে?’
শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তুলনায় শাস্তি বেশি হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তাশরীফ বলেন, মাদরাসা ভাঙচুর করার কারণ কী? এমন প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি, ওই শিক্ষক ছাত্রীকে চুমু দেননি; বরং ভালো ফল করলে চুমু দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
নিজের প্রসঙ্গ টেনে তাশরীফ আরও বলেন, তিনি যদি অনেক শিশুকে চুমু দেওয়ার কথা বলেন, তাহলে তাঁকে মারার সাহস কারও আছে কি না। এ সময় তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দুটি ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ দিয়ে তাঁদের দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে তাশরীফ বলেন, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি ভিন্ন। তবে শুধু চুমু দেওয়ার কথা বলার কারণে এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটনার সূত্রপাত গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায়। ছয় বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিনকে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শিশুর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ