ব্রেকিং নিউজ
আ. লীগ আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল: হাসনাত

আ. লীগ আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল: হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ ধরনের সাজানো নাশকতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হচ্ছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহর দাবি, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচার করত যে, তারা ক্ষমতায় না থাকলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ থাকবে না এবং দেশ চরমপন্থার দিকে এগিয়ে যাবে। এ বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে ‘জঙ্গিবাদের নাটক’ সাজানোর পাশাপাশি বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে অন্য পক্ষের ওপর দায় চাপানো হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ তৈরি করা হতো। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর একমাত্র রক্ষাকর্তা হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হতো।

এনসিপির এই নেতা আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর এ ধরনের সাজানো নাশকতা উল্লেখযোগ্যভাবে বন্ধ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করছেন। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম অর্জনের প্রতিফলন।

দেশের অপরাধ ও অস্থিরতাকে শুধু সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রবণতার সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, চাঁদাবাজি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জমি দখলের মতো অপরাধের পেছনে মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ কাজ করে। এসব অপরাধের শিকার হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের সাধারণ ও ক্ষমতাহীন মানুষ।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো বেছে বেছে প্রচার করত। কখনো কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরি করেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তাঁর মতে, সব অপরাধের যথাযথ বিচার এবং সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা স্থায়ীভাবে দূর করা সম্ভব। এ সময় বৈষম্যহীন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নতুন বাংলাদেশের অর্জন রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *