ব্রেকিং নিউজ
বিদ্যুৎ নেই, খামারে হাঁসফাঁস—চরম বিপাকে খামারিরা

অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে বিপাকে পোলট্রি খামারিরা, বাড়ছে লোকসানের চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক,

ঘন ঘন ও দীর্ঘসময় লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকার পোলট্রি খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় খামারে ফ্যান ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গরমের সময়ে এতে মুরগির ওপর অতিরিক্ত তাপের চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে মুরগি অসুস্থ হওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এতে লোকসানের মুখে পড়ছেন অনেক খামারি।

খামারিদের অভিযোগ, একটি পোলট্রি খামার পরিচালনায় বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুরগির জন্য পর্যাপ্ত বাতাস, সহনীয় তাপমাত্রা এবং নিয়মিত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সচল রাখা প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় এসব ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক খামারে মুরগিগুলো হাঁপাতে শুরু করে। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করায় খামারের পরিবেশ দ্রুত অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। এতে মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুহারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে খামারিদের উৎপাদন খরচের বিপরীতে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।

একজন খামারি বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে খামারের ফ্যান ও ভেন্টিলেশন বন্ধ হয়ে যায়। গরমে মুরগিগুলো খুব কষ্ট পায়। অনেক সময় মুরগি মারা যায়। এতে আমাদের সরাসরি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

খামারিদের মতে, লোডশেডিংয়ের কারণে শুধু মুরগির ক্ষতিই হচ্ছে না; খামারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাও ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় খামারের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা নিজেদের সঞ্চয়, ঋণ কিংবা ধার করা অর্থ দিয়ে খামার পরিচালনা করেন। তাই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বারবার ক্ষতির মুখে পড়লে তাদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

খামারিদের দাবি, পোলট্রি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে গরমের সময়ে দীর্ঘসময় লোডশেডিং না দেওয়া এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়সূচি আগাম জানানো হলে খামারিরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

খামারিদের আশঙ্কা, দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে লোকসানের চাপ আরও বাড়বে এবং অনেক খামারি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকটে পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *