ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: সাজেদা আক্তার
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
চরভদ্রাসনে মৎস্য তালিকাভুক্ত জেলেদের চাল বিতরণ প্রণয়নে অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দাখিল করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, চরভদ্রাসন উপজেলায় মৎস্য তালিকাভুক্ত করতে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে মৎস্য অফিসের নামে অর্থ লেনদেন এবং সুবিধাভোগী জেলেদের চাল বিতরণের তালিকায় জীবিত জেলেদের মৃত দেখানো ও পেশার শ্রেণি পরিবর্তন করার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, চরভদ্রাসন উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে মোট ১,৬৫৪ জন জেলে তালিকাভুক্ত।
চরভদ্রাসন ইউনিয়নের ১৭৯ জন, গাজীরটেক ইউনিয়নের ১৮৯ জন, চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ২৯৩ জন এবং চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের ১৩৯ জন জেলেসহ মোট ৮০০ জন জেলেকে বরাদ্দকৃত চাল দেওয়া হয়েছে।
এই জেলেদের তালিকাভুক্ত করতে মৎস্য অফিসের নাম করে ইউপি সদস্যরা টাকার বিনিময়ে তালিকাভুক্ত করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে মৎস্য অফিসের কিছু লোকজনও তালিকাভুক্ত করতে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ ও তালিকা প্রণয়নে ইউপি সদস্যদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের সুবিধামতো লোক না হলে বরাদ্দকৃত চাল দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তালিকাভুক্ত জেলেদের ভিজিএফের চালের সুবিধা নিতে গেলে ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে যেতে হয়। তাঁদের পছন্দমতো লোকদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
তালিকাভুক্ত জেলেদের সুবিধা আনতে গেলে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা তালিকাভুক্ত জেলেদের বাছাই করে প্রকৃত জেলেদের মৃত দেখাচ্ছেন এবং পেশা পরিবর্তন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চরহরিরামপুর ইউপির ১ নম্বর সদস্য মোস্তফা এবং ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত নারী সদস্য তাসলিমা মিলে প্রকৃত জেলে তোতা মীরমালতের ছেলে হাফিজুল মীরমালত (জেলে কার্ড নম্বর: ৩০২৯২১০০৩৮০০০১১৩) এবং শেখ মঙ্গলের ছেলে শেখ খালেককে (কার্ড নম্বর: ৩০২৯২১০০৩৮০০০২৫১) মৃত দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রকৃত জেলে শেখ চাদুল্লার ছেলে শেখ মাসুদকে (কার্ড নম্বর: ৩০২৯২১০০৩৮০০০০০৫) ব্যবসায়ী দেখিয়েছেন। শেখ লাল মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমানকে (কার্ড নম্বর: ৩০২৯২১০০৩৮০০০০০৭) প্রবাসী দেখিয়ে সুবিধা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আব্দুস সালাম বেপারীর ছেলে কামরুল বেপারীর (কার্ড নম্বর: ৩০২৯২১০০৩৮০০০০১০) পেশা পরিবর্তন করা হয়েছে। নুর আলমের ছেলে শেখ বিল্লালকে (কার্ড নম্বর: ৩০২৯২১০০৩৮০০০২৩৬) প্রবাসী দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, সাহা মোল্লার ছেলে আক্তার মোল্লার মাস্টার রোলে নাম থাকলেও তিন অ্যালট ধরে চাল পাচ্ছেন না।
এ ছাড়াও অনেকের পেশা পরিবর্তনসহ ইউপি সদস্যরা বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তাঁদের এমন মনোভাবের কারণে জেলে তালিকায় থেকেও সুবিধা পাওয়ার তালিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত জেলেরা।
এ ব্যাপারে ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোস্তফার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের ইচ্ছায় করা হয়। আপনার ওয়ার্ডের কে প্রবাসী, কে মৃত? সেটা কি চেয়ারম্যান জানেন? আপনি জানেন? এ বিষয়ে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত ইউপি সদস্য তাসলিমাকে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, চরভদ্রাসন ইউপির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মৎস্যজীবী নেতাদের উপস্থিতিতে তাঁদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে মৎস্য অফিসের কিছু স্টাফের যোগসাজশে মৎস্যজীবীদের তালিকা করা হয়।
এ ব্যাপারে চরহরিরামপুরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, সুবিধাপ্রাপ্ত জেলেদের মাস্টার রোলের তালিকা ইউপি সদস্যরা প্রণয়ন করে দেন।
এদিকে, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিপ্লব জানান, সুবিধাপ্রাপ্তদের তালিকা ইউনিয়ন পরিষদ অফিস থেকে প্রণয়ন করা হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী ভিজিএফের চাল দেওয়া হয়। পেশা পরিবর্তন এবং তালিকাভুক্ত জেলেদের মৃত দেখিয়ে তালিকা প্রণয়ন করা মৎস্য অফিসের কাজ নয়।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ