নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর ঘর আলো করে এসেছিল সন্তান। তাকে ঘিরে বাবা-মায়ের ছিল হাজারো স্বপ্ন। কিন্তু জন্মের পর থেকেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত শিশু জায়ানের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার দরিদ্র বাবা-মা। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যে জরুরি অস্ত্রোপচার করাতে প্রয়োজন প্রায় ৬ লাখ টাকা। কিন্তু অভাবের সংসারে এই অর্থ জোগাড় করা এখন তাঁদের কাছে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিশু জায়ান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাঘাহাটি গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসান ও ছনিয়া বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান। পেশায় কাঠমিস্ত্রি হাসান দিনমজুরের মতো পরিশ্রম করে সংসার চালান। সীমিত আয়ে পরিবারের ভরণপোষণ চালানোর পাশাপাশি সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি।
পরিবারের দাবি, চিকিৎসকেরা জায়ানের হৃদ্পিণ্ডে তিনটি ছিদ্র শনাক্ত করেছেন। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বাবা-মা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে জায়ানের মা ছনিয়া বেগমের পিত্তথলিতে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। স্ত্রীর চিকিৎসায় জমানো অর্থ ব্যয় হয়ে যাওয়ায় আগে থেকেই আর্থিক সংকটে ছিলেন হাসান। এর মধ্যে একমাত্র সন্তানের জটিল হৃদ্রোগ ধরা পড়ায় পরিবারটির দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
‘আমার বাচ্চাটারে বাঁচান’, মায়ের আকুতি
সন্তানের চিকিৎসার জন্য দেশবাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জায়ানের মা ছনিয়া বেগম বলেন, “পাঁচ বছর পর আল্লাহ আমাকে এই সন্তান দিয়েছেন। সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্ট করেছি, অনেক স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু আজ টাকার অভাবে তার চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমি মা হয়ে সবার কাছে সাহায্য চাইছি। কেউ ১০ টাকা, কেউ ৫ টাকা—যেভাবে পারেন, আমার বাচ্চাটাকে বাঁচাতে সাহায্য করুন। আমার আশা, আমার সন্তান বড় হয়ে আমাকে ‘মা’ বলে ডাকবে। আমি তাকে বুকে নিয়ে বাঁচতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, সন্তানের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পারায় প্রতিটি মুহূর্ত দুশ্চিন্তায় কাটছে তাঁদের। সামর্থ্যবান মানুষের সামান্য সহযোগিতাও জায়ানের চিকিৎসার জন্য বড় সহায়তা হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
চিকিৎসার ব্যয় বহনে অসহায় বাবা
শিশুটির বাবা মোহাম্মদ হাসান বলেন, “আমি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। আমার বাচ্চার হার্টে তিনটি ছিদ্র ধরা পড়েছে। ডাক্তার জরুরি অপারেশন করানোর কথা বলেছেন। এতদিন যতটুকু পেরেছি, চিকিৎসা চালিয়েছি। কিন্তু এখন অপারেশনের এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। টাকার অভাবে নিজের সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমি সমাজের সবার কাছে সাহায্য চাই।”
জায়ানকে বাঁচাতে মানবিক সহায়তার আবেদন
শিশু জায়ানের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। অর্থের অভাবে একটি শিশুর জরুরি চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
জায়ানের বাবা-মা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনসহ দেশবাসীর কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে এবং দ্রুত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পাবে ছোট্ট জায়ান।
📲 সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম (বিকাশ/নগদ): 01929-003974
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ