নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আওয়ামী লীগকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ বলেছেন, তিনি মনে করেন না এ মুহূর্তে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন আছে। তবে তার দাবি, ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন হলে যিনি বা যারা এর জন্য দায়ী, তাদেরই ক্ষমা চাইতে হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আদালতে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার হত্যা ও তারেক তৌকিদারকে হত্যাচেষ্টার দুই মামলায় আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এ সময় কারাগার থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতে নেওয়ার পথে ফিরোজ বলেন, একটি মামলায় দুই বছরের সাজা খাটার পর জামিন হয়েছে। এরপর আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর অন্য মামলায় এভাবে গ্রেপ্তার দেখানো আইনসঙ্গত কি না।
পরে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। ফিরোজের পক্ষে আইনজীবী কামাল হোসেন বিশ্বাস ও শফিকুল ইসলাম স্বপন গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানির একপর্যায়ে আ স ম ফিরোজ আদালতের অনুমতি নিয়ে বলেন, তার বয়স ৭৮ বছর। দুই বছরের বেশি সময় ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আটবারের সংসদ সদস্য উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো অন্যায় বা অপরাধ করেননি। অসুস্থতার কথাও জানিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ পাওয়ার কথা আদালতকে বলেন তিনি।
শুনানি শেষে আদালত তাকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হলে কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ফিরোজের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, চার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন তার মক্কেল। কারামুক্ত হওয়ার সময়ই নতুন দুই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থানকালে নাইম হাওলাদার বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অন্য মামলায় বলা হয়েছে, একই দিন যাত্রাবাড়ী এলাকায় তারেক তৌকিদারের রুমমেট শিহাব ছাদে গুলিবিদ্ধ হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তারেকও গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ