ব্রেকিং নিউজ

আ.লীগ ফিরলে আমাকে আপনাকে পিটিয়ে হত্যা করবে: রাশেদ খাঁন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগ আবারও দেশে ফিরলে তাদের হাতে মানুষ নির্যাতন ও হত্যার শিকার হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগকে ফেরানোর ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা কবরস্থানে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, শেখ হাসিনা অপেক্ষা করছেন জামায়াত কতদিনে ও কত সময়ে রাষ্ট্রকে অশান্ত করে। জামায়াতের ওপরই আওয়ামী লীগ ফিরে আসার বিষয়টি নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, আওয়ামী লীগ ফিরে এলে আবরার ফাহাদকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, একইভাবে সাধারণ মানুষকেও হত্যা করা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে এবং জাতিসংঘও এ বিষয়ে কথা বলেছে। তাই তার মতে, আওয়ামী লীগের অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে এবং দলটির নতুন করে বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ নেই। তবে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি সংকট নিয়ে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সংকট। এই সংকটকে পুঁজি করে লংমার্চ করলে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হবে। তিনি বিরোধী দলগুলোকে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলটি যদি আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৯৬ সালের মতো বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করার চিন্তা করে, তাহলে জনগণ জামায়াতের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করবে। আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে জড়িত সংগঠনের বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন বলেন, যারা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং আবরার ফাহাদের চেতনাকে ধারণ করেন, তারা রাজপথে থেকে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করবেন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও শহীদ ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট না করলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন না। অতীতের সম্পর্কের পরিবর্তে ভারতের সঙ্গে সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

এ সময় শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, কুমারখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার ও থানার ওসি জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *