ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী

শেখ হাসিনা ইতিহাসের নি’কৃষ্ট’তম ও ঘৃ’ণ্য ফ্যা’সি’স্ট ছিলেন: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:২০ এএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা ছিলেন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট। তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট ও নাৎসিরা জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকলেও শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, নাৎসি হিটলার ও মুসোলিনির মতো ফ্যাসিস্টরা এথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত নিপীড়নের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। তবে তারা নিজেদের জাতিকে পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে। 

তিনি বলেন, হিটলার বা মুসোলিনি শেখ হাসিনার মতো টাকা পাচার, ব্যাংকের অর্থ লুট, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন কিংবা সরকারি জমি দখল করেনি। তার ভাষায়, তারা ভয়ংকর খুনি ও ফ্যাসিস্ট হলেও নিজ দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল। অন্যদিকে শেখ হাসিনার মূল এজেন্ডা ছিল গোটা জাতিকে লুণ্ঠন করে নিজের আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এ কারণেই শেখ হাসিনা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট।

বিএনপির এই নেতা বলেন, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে এক বিশেষ চোরাপথে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে এবং বাংলাদেশেও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগ জনগণের রক্ত ঝরাতে দ্বিধা করেনি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। 

রিজভী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে কোলের শিশুও নিহত হয়েছে। এছাড়া রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি, ফলের দোকানের কর্মচারী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল এক বিশাল জাগরণ এবং অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনগণের ভেতরে সুপ্ত শক্তির পারমাণবিক বিস্ফোরণ। জনগণের এই শক্তি শেখ হাসিনা উপলব্ধি করতে পারেননি বলেই বারবার ভুয়া ও পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছেন। বিশ্বের দু-একটি দেশ ছাড়া কেউ সেই সরকারকে সমর্থন করেনি। তবুও তারা জোর করে ক্ষমতায় ছিল।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার যে গণতান্ত্রিক প্রত্যয় রয়েছে, তা বাস্তবায়নে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেভাবে লড়াই করেছেন, সেই লড়াইয়ে তারা ভবিষ্যতেও শামিল হতে দ্বিধা করবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *