মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও দ্রুত বাড়ছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। দিনের লেনদেনে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে উঠেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও বেড়ে প্রায় ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। টানা চতুর্থ সেশনে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফলে তেলের দামে অতিরিক্ত ঝুঁকি-প্রিমিয়াম যুক্ত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেল পরিবহন ও সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কাই বর্তমানে বাজারকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে।
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপও নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের নজর এখন তেলের দাম শেষ পর্যন্ত ১০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করে কি না, সেদিকে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে বাজারে উদ্বেগ রয়েছে।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কতটা নির্বিঘ্ন থাকে—তার ওপরই আগামী দিনগুলোতে তেলের দামের গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ