নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ক্রমেই অস্বস্তিতে পড়ছে নয়াদিল্লি। তার ভারতে অবস্থান, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে বিবিসি নিউজ বাংলা ও আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাটে পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তাকে ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান এবং দুই দেশের সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ভারত শুরুতে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে আশ্রয় দিয়েছিল। তবে তার ভারতে অবস্থানের সময় দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিষয়টি এখন দুই দেশের জন্যই একটি জটিল কূটনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
ভারত সরকার বিভিন্ন সময়ে বলে আসছে, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন, তা তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে গত ৫ আগস্ট দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে অনলাইনে শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
ওই অনুষ্ঠানের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আগে থেকেই ভারতকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। এরপরও দিল্লিতে এমন একটি অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এদিকে ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে একজন রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে তার ওপর রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি ভারত সহজভাবে দেখছে না।
অন্যদিকে বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়টি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে গঙ্গার পানি চুক্তি, বাণিজ্য ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতেও সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দিল্লির নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন। ভারতের জন্য তিনি আগের মতো কৌশলগত সম্পদ না হয়ে বরং একটি কূটনৈতিক চাপের কারণ হয়ে উঠছেন—এমন ধারণাও উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এখন শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের নজরে।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ