নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:০১ পিএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পর তার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশে হত্যা মামলা থাকায় তিনি কীভাবে ফিরবেন এবং দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন প্রশ্ন তুলেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নিউইয়র্ক সময় দুপুর ১২টা, বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় প্রচারিত ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন হাসনাত কাইয়ুম। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে কীভাবে ফিরবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসনাত কাইয়ুম বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশে হত্যা মামলা রয়েছে। বর্তমান সরকারও তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চায়। ফলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে একটি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
হাসনাত কাইয়ুমের মতে, দুই দেশের সরকারের মধ্যে কোনো ধরনের বোঝাপড়া ছাড়া শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা কঠিন। তবে তিনি যেকোনোভাবে দেশে ফিরলেও তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে মন্তব্য করেন।
এর আগে গত ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং দেশে ফিরলে মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে? তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
টকশোতে রুমিন ফারহানার কাছে জানতে চাওয়া হয়, শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা তিনি কতটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন। জবাবে তিনি বলেন, তার ধারণা শেখ হাসিনা ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে পারেন।
রুমিন ফারহানার মতে, শেখ হাসিনা যদি দেশের বাইরে থেকে জীবনের বাকি সময় কাটিয়ে দেন, তাহলে আওয়ামী লীগও হয়তো আর দেশের মাটিতে ফিরতে পারবে না। আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রাখার বিষয়টি শেখ হাসিনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন এবং তার বক্তব্য নিয়ে টকশোতে আলোচনা হয়। হাসনাত কাইয়ুম বলেন, শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দেওয়া উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখানোর কারণে সংবাদ সম্মেলনটি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যসহ মানুষের দৈনন্দিন নানা সমস্যা রয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে এসব বিষয় অনেকটাই আড়ালে চলে যাচ্ছে।
হাসনাত কাইয়ুমের পরামর্শ, বিএনপির উচিত শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড নিয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ না দিয়ে জনগণের নিত্যদিনের সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া। দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার কারণে দেশে ফেরার পর আইনগত প্রক্রিয়াই এখন আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ