ব্রেকিং নিউজ
দুই সন্তানকে নিয়ে এখন তার ঠিকানা খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গা।

সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

দুই সন্তানকে নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেহানা খাতুন। ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।

বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায় বসবাস করছেন রেহানা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করা হলেও অর্থের অভাবে কয়েক মাস ধরে সেটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রখর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সন্তানদের নিয়ে দিন কাটছে তার।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেহানা আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন। দীর্ঘদিন ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় একপর্যায়ে সেই আশ্রয়ও হারাতে হয়। পরে সন্তানদের নিয়ে রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন তিনি।

এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, একদিন রেহানাকে মাথায় চুল ছাড়া অবস্থায় দেখে তারা কারণ জানতে চান। তখন কান্নাকাটি করে রেহানা জানান, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে তিনি নিজের চুল বিক্রি করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে মর্মবেদনা তৈরি হয়।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দুই সন্তানকে নিয়ে রেহানা অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তার জন্য দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি।

রেহানা খাতুন বলেন, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি সব কষ্ট সহ্য করছেন। ঘর নেই, খাবারেরও কষ্ট রয়েছে। নিরুপায় হয়ে নিজের চুল বিক্রি করেছেন। সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে থাকার জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানান তিনি।

এলাকাবাসীর দাবি, রেহানার মতো অসহায় পরিবারের জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁশের কাঠামোটিই এখন রেহানার স্বপ্নের ঘর। টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা হলে সেখানে দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *