
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় দেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান কে হচ্ছেন—এ প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘুরে ফিরে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক পরিচিতি, নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি এবং বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার কারণেই তাকে নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। তিনি ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন এবং ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব মূলত সাংবিধানিক হলেও আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সে বিবেচনায় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করা হলে কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে ড. ইউনূসের নাম আলোচনায় আসায় বিএনপির ভেতরে ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণও তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, অন্যদিকে দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত নেতাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে দেখতে চান অনেকেই।
বিএনপির ভেতরে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং রুহুল কবির রিজভী।
এদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে অতীতের কিছু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে এ বিষয়ে দলটির অভ্যন্তরে ভিন্নমত রয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেই নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যিনি রাজনৈতিকভাবে পরীক্ষিত এবং দলের আদর্শের প্রতি আস্থাশীল।
এ বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও জানিয়েছেন, দলের গঠনতন্ত্র ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত ব্যক্তির নাম ঘোষণা করা হবে।
এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। শেষ পর্যন্ত দলটি নিজ দলের অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্য থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়, নাকি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়—সেটিই এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ