নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
ঢাকার মেট্রোরেলের নতুন লাইন-১ ও লাইন-৫ নির্মাণে ব্যয় প্রাথমিক প্রাক্কলনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। সরকারের সাত সদস্যের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
কমিটির হিসাবে, ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১-এর নির্মাণ ব্যয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। আর এমআরটি লাইন-৫-এর ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮৮ হাজার থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে।
ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, করের হার বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের নকশায় পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। কমিটি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার বিবেচনায় নিয়েছে। একই সময়ে টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান শামীম জেড বসুনিয়া বলেন, পাঁচ থেকে সাত বছর আগে প্রকল্পের মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির সময়ের তুলনায় বর্তমানে নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তিনি জানান, বর্তমান ও প্রস্তাবিত নকশার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। এটি কোনো প্রকৌশলগত সমীক্ষা ছিল না। বিশ্লেষণে প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
এদিকে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির হিসাবের চেয়েও বেশি ব্যয় ধরে মেট্রোরেল লাইন-১ ও ৫-এর জন্য সংশোধিত প্রস্তাব তৈরি করেছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
সংশোধিত প্রস্তাবে এমআরটি লাইন-১-এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানের অর্থায়ন থাকবে ৮৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। মূল প্রস্তাবে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫-এর সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানি অর্থায়নের পরিমাণ ৬৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। মূল প্রস্তাবে প্রকল্পটির ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা।
ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মেট্রোরেল প্রকল্প দুটির বাস্তবায়নকালও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। লাইন-১ প্রকল্পের মেয়াদ ২০৩৫ সালের ডিসেম্বর এবং লাইন-৫ প্রকল্পের মেয়াদ ২০৩৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
প্রকল্প দুটির ব্যয় নিয়ে জাপানের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করতে হলে দ্রুত প্রকল্প দুটির কাজ শুরু করা প্রয়োজন।
এদিকে গত বছরের জুন পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পে ৩ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পে ৫ হাজার ১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ দুই প্রকল্পে ইতোমধ্যে মোট ৮ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ