নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ভারতের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হবে না। বিষয়টি ভারতের আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না—আদালতের প্রক্রিয়ায় তা খতিয়ে দেখা হবে।
ভারতের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর প্রকৃতি এবং সেগুলো ভারতের প্রচলিত আইনে অপরাধ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।
এদিকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা আবেদনের বিষয়টি ভারত সরকার পর্যালোচনা করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নির্ধারিত ও প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পাঠানো প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে ২০১৩ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের আদালতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে সেটিকে আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা রয়েছে শেখ হাসিনার পক্ষের প্রতিনিধিদের।
২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে। তবে চুক্তিতে রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে। এখন তার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের আইনি প্রক্রিয়া কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ