নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর পুরো ১২ মাসে ৫৫ জন ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হলেও চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে। মাসিক গড় হিসাবে এ ধরনের অপরাধ বেড়েছে ৮১ শতাংশ।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ৭৪৯টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে ৫৬৯টি ছিল একক ধর্ষণ এবং ১৮০টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা। গত পাঁচ বছরে দেশে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে ২০২টি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১০ জন নারী ও ২১ জন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন, অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলা, ভুক্তভোগীকে চুপ করিয়ে দেওয়া কিংবা পরিচয় প্রকাশের ভয় থেকে অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। সমাজের অস্থিরতা, মাদকের প্রসার এবং বিচারহীনতাকেও এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার নৃশংসতা দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এর পেছনে সামাজিক অস্থিরতা, মাদকের বিস্তার এবং বিচার না হওয়ার প্রবণতা রয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তির ওপর জোর দিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, ধর্ষণের পর হত্যা বন্ধে দ্রুত মেডিক্যাল পরীক্ষা, ডিএনএ ও অন্যান্য ফরেনসিক আলামত সংরক্ষণ, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর নিরাপত্তা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে যৌন সহিংসতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের বয়সোপযোগী নিরাপত্তা শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা জরুরি।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ