নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়া বায়তুল মোকাররমের সাবেক খতিব মুফতি রুহুল আমিনের ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানার সাজা বহাল রেখেছেন আদালত।
পৈতৃক সম্পত্তির দখল নিয়ে নিজের বড় ভাইয়ের স্ত্রী ফাতেমা বেগমের করা মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মুফতি রুহুল আমিনের করা আপিল খারিজ করে বুধবার এ রায় দেন গোপালগঞ্জ জেলার পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক শাহনাজ নাসরীন খান। একই সঙ্গে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই মামলায় বাদীপক্ষের করা সাজা বৃদ্ধির আবেদনও খারিজ করে দেন আদালত।
মামলার বাদী ফাতেমা বেগম হলেন মুফতি রুহুল আমিনের বড় ভাই ‘বড় পীর’ হিসেবে পরিচিত প্রয়াত হাফেজ মাওলানা ওমর আহমদের স্ত্রী। তিনি ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়া থানা আমলী আদালত, গোপালগঞ্জে নালিশি আবেদন করে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, টুঙ্গিপাড়া থানার ২৩ নম্বর শ্রীরামকান্দি মৌজার ২৮৬২ নম্বর খতিয়ানের বিআরএস ৪৯৭৯ নম্বর দাগে মোট ৩৪ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে ফাতেমা বেগমের স্বামী মাওলানা ওমর আহমদের অংশ ১৭ শতাংশ এবং মুফতি রুহুল আমিনের অংশও ১৭ শতাংশ।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, নিজের অংশ ১৭ শতাংশ হওয়ার পরও রুহুল আমিন পুরো ৩৪ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলে নেন। পরে ওই জমিতে ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করেন। এতে বাধা দিলে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো এবং ফাতেমা বেগমকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
মামলাটির বিচার শেষে ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ আলী তালহা রুহুল আমিনকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দেওয়া হয়।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে মুফতি রুহুল আমিন আপিল করেন। অন্যদিকে বাদী ফাতেমা বেগমও সাজা বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে আপিল করেন।
দুই পক্ষের আপিলের শুনানি শেষে আদালত উভয় আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের দেওয়া ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার সাজা বহাল রাখেন।
মুফতি রুহুল আমিন বায়তুল মোকাররমের খতিবের দায়িত্ব পালন এবং শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়ার কারণে অতীতে আলোচনায় ও সমালোচনায় ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
বর্তমান মামলায় আদালতের সিদ্ধান্তের মূল বিষয় ছিল পৈতৃক সম্পত্তির দখল নিয়ে বিরোধ। আপিলে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল থাকায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ