ব্রেকিং নিউজ
ছবি: সংগৃহীত

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ভাইরাল, জামায়াত কর্মী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়ায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফার্মেসিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মো. হেলাল উদ্দিন (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের আদর্শ গ্রাম বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আটক হেলাল উদ্দিন ওরফে হেলাল মাস্টার হরণী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের বেলায়েত খলিফার ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করেন। এর আগে তিনি আদর্শ গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। দুই থেকে তিন বছর আগে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে কৌশলে ৯ বছর বয়সী ওই শিশুকে ফার্মেসিতে ডেকে নেন হেলাল উদ্দিন। পরে দোকানের পেছনের অংশে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি এক প্রত্যক্ষদর্শী টের পেয়ে টিনের একটি ভাঙা অংশ দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দোকান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে গত ৪ আগস্ট একই এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে বিচার বসানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫০টি বেত্রাঘাতের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, হেলাল উদ্দিন একসময় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তাকে জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও দেখা গেছে।

তবে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা দাবি করেন, হেলাল জামায়াতের কোনো কর্মী নন। তিনি আগে যুবলীগ করতেন এবং নিজেকে বাঁচাতে ৫ আগস্টের পর একটি বড় মিছিলে ঢুকে পড়েছিলেন।

চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন রাসেদ বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয়দের আটক করা অভিযুক্তকে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বজনেরা হাতিয়া থানায় মামলা করবেন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করবেন। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *