ব্রেকিং নিউজ
ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা করবে সংসদ

ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা করবে সংসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে বেআইনি, অনৈতিক বা দলীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় সংসদ। এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের হুইপদের সমন্বয়ে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট সংসদ সচিবালয় থেকে কমিটি গঠনের আদেশ দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সরকারদলীয় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সরকারদলীয় হুইপ জিকে গউছ, রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ও বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময় বেআইনি, অনৈতিক বা দলীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিষয়ে করণীয় সুপারিশ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সভায় ডাকা এবং বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথি, তথ্য, ফ্লোর প্ল্যান ও প্রতিবেদন সংগ্রহের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।

কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, জাতীয় সংসদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাসংবেদনশীল এলাকা। অতীতে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অতিরিক্ত কর্মকাণ্ড দেখা গেছে। তাদের কেউ কোনো অনিয়ম বা এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন কি না, তা নিরপেক্ষভাবে চিহ্নিত করা হবে। কাউকে হয়রানি বা চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য তাদের নেই বলেও জানান তিনি।

সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ একে অপরকে ‘ফ্যাসিবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার বিগত সরকারের সময় সুবিধাভোগী কিছু কর্মকর্তা বর্তমান সরকারপন্থি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করছেন। এসব বিষয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ ও অন্য হুইপদের নজরে আসার পর কমিটির কার্যপরিধিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় সংসদের মূল ভবনের অফিস কক্ষগুলোর পুনর্বিন্যাস এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের দাপ্তরিক স্থান ব্যবহারের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে কমিটিকে। অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত কক্ষ কমানো, একীভূতকরণ, পুনর্বণ্টন ও স্থানান্তরের বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি।

গণপূর্ত বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, লুই কানের নকশায় জাতীয় সংসদ ভবনে প্রায় ৪০০টি কক্ষ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেখানে ৫০০টির বেশি কক্ষ রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব কক্ষের ব্যবহার ও বরাদ্দ পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *