নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
ভারতের উজান থেকে হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি এবং উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে উজানের পানি বৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা গেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের আসাম ও মেঘালয়সহ উজান অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হলে বাংলাদেশে বিভিন্ন নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ভারতের বাঁধ বা জলাধার থেকে পরিকল্পিতভাবে পানি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে ‘কৃত্রিম বন্যা’ সৃষ্টি করা হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশে বন্যা সৃষ্টি করার জন্য ভারত পানি ছাড়ছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২০২৪ সালের বন্যার সময়ও ভারতের ত্রিপুরার ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের গেট খোলা এবং উজানের পানি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে বলা হয়, অতিবৃষ্টি ও উজানের পানির প্রবাহসহ একাধিক কারণ মিলেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল; শুধু বাঁধের গেট খোলাকে এর একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিন্ন নদীগুলোর পানি প্রবাহ, উজানের বৃষ্টিপাত এবং বাঁধ বা ব্যারাজ পরিচালনার তথ্য বাংলাদেশকে দ্রুত জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগাম তথ্য পাওয়া গেলে বন্যাপ্রবণ এলাকায় মানুষ ও সম্পদ রক্ষায় প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।
তাই ভারতের পক্ষ থেকে পানি ছাড়ার কোনো ঘটনা ঘটলে সেটি ইচ্ছাকৃত নাকি প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের অংশ, তা নির্ধারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য ও পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, ‘ভারত বাংলাদেশে কৃত্রিম বন্যা ঘটাতে যাচ্ছে’—এমন দাবি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রচার করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নদীর পানি ও বন্যা পূর্বাভাসের তথ্যই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নির্দেশক হবে।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ