নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ এএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়ার পাশাপাশি বাজারে এর প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বাড়তি আয় ও চাহিদার প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ।
সরকারের অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা। সরকার বলছে, সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, আর্থিক সক্ষমতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই নতুন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে।
তবে অর্থনীতির ওপর নতুন পে-স্কেলের প্রভাব নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ গেলে বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়তে পারে। একই সময়ে যদি উৎপাদন ও সরবরাহ সেই অনুপাতে না বাড়ে, তাহলে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর ফলে আয় না বাড়া সাধারণ মানুষকে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে হতে পারে।
এর আগে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায়ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি উঠে এসেছিল। জুলাই মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বলা হচ্ছে, ২০১৫ সালের পর নতুন বেতন কাঠামো না হওয়ায় দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে তাদের আয় সামঞ্জস্য হারিয়েছে। নিত্যপণ্য, বাসাভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা বিশেষভাবে চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সংগঠন দাবি করে আসছে।
অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে, নতুন পে-স্কেলের সুফল সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে বাজার ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি এবং সরকারের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার ওপর। তাই শুধু বেতন বাড়ানো নয়, একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের বাজারে নজরদারি জোরদার ও সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ফলে নবম পে-স্কেল সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির খবর হলেও সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রভাব নির্ভর করবে বাজারে এর পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ওপর। বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে যদি দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে রাখা না যায়, তাহলে বাড়তি আয়ের একটি অংশ আবারও পণ্যের উচ্চমূল্যের পেছনে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
Somoyer Prohor সময়ের প্রহর | বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | ব্রেকিং নিউজ | বাংলা নিউজ