ব্রেকিং নিউজ

শেখ হাসিনার নামে কী কী সম্পদ, ধানমন্ডি ৩২ কি তাঁর?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাঁর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এখন কীভাবে এসব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া কী হবে, তা নির্ধারণে কাজ চলছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইন ও বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এ জন্য কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তা সাধারণ আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

শেখ হাসিনার নামে থাকা সম্পদের তথ্য ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে দেওয়া তাঁর হলফনামা থেকে জানা যায়। ওই হলফনামায় তিনি নিজের নামে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন।

হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার হাতে নগদ ছিল প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত ছিল।

তাঁর নামে তিনটি মোটরগাড়ির তথ্যও হলফনামায় দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি উপহার হিসেবে পাওয়া। অন্য দুটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয় প্রায় ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবের মূল্য ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

শেখ হাসিনার নামে টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে মোট ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমির তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুরের মৌচাকের তেলিরচালা এলাকায় শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের একটি বাগানবাড়ি রয়েছে।

ভূমি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার জমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে দেওয়া হয়েছিল। পরে উত্তরাধিকারসূত্রে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ওই জমির মালিক হন। পরবর্তী সময়ে জমির কিছু অংশ তাঁদের সন্তানদের নামে হস্তান্তর করা হয়।

ঢাকার পূর্বাচলে শেখ হাসিনার নামে একটি প্লট রয়েছে, যার মূল্য হলফনামায় ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। একই এলাকায় শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ, সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের নামে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে ছয়জন ৬০ কাঠা জমি পেয়েছেন। এসব প্লট বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা চলছে।

ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটি শেখ হাসিনার নামে নয়। ভূমি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিকানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের হাতে। অন্যদিকে ধানমন্ডির সুধা সদনের মালিকানা রয়েছে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের নামে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় নিজের জমির পরিমাণ ৬ দশমিক ৫০ একর দেখিয়েছিলেন। পরে যাচাইয়ে তাঁর নামে ২৮ একর ৪১ শতকের বেশি স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় সংস্থাটি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং জুলাইয়ের শহীদদের পরিবারকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এখন সেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কার্যকর প্রক্রিয়া নির্ধারণের কাজ চলছে। চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে আগের রায়ের ভিত্তিতেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *