ব্রেকিং নিউজ
এবার ভারতের ভূখণ্ড নিজেদের বলে দাবি করলো নেপাল

এবার ভারতের ভূখণ্ড নিজেদের বলে দাবি করলো নেপাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৯ এএম

ভারত ও নেপালের মধ্যকার সবচেয়ে পুরোনো ও সংবেদনশীল সীমান্ত বিরোধের মূলে রয়েছে ২১০ বছরের প্রাচীন ‘সুগৌলি চুক্তি’। তবে এই ঐতিহাসিক ভিত্তিকে কেন্দ্র করেই এবার চরম অস্বস্তিতে পড়েছে কাঠমান্ডু। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নির্ধারণকারী ১৮১৬ সালের মূল সুগৌলি চুক্তিটি নেপাল সরকারের কাছে আদৌ আছে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না দেশটি। নেপালের পার্লামেন্টে খোদ সরকারই এই তথ্য স্বীকার করেছে।

সীমান্তবর্তী কালাপানি, লিম্পিয়াধুরা ও লিপুলেখ এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মানচিত্রভুক্ত করার দাবি তুলে আসছিল নেপাল। সেই দাবি ঘিরে নয়াদিল্লি ও কাঠমান্ডুর কূটনৈতিক সম্পর্কে একাধিকবার টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কাঠমান্ডুর এই আঞ্চলিক দাবির সপক্ষে ঐতিহাসিক প্রমাণ কোথায়? ভারতের এই প্রশ্নের মুখে পড়ে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে নেপাল সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সীমান্ত নির্ধারণকারী মূল চুক্তির নথিপত্রই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটির মূল নথি খুঁজে পেতে পার্লামেন্টের উদ্যোগে গঠিত অনুসন্ধানী দল নেপালের জাতীয় আর্কাইভ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও জাদুঘরে তল্লাশি চালিয়েও কোনো আসল কপি উদ্ধার করতে পারেনি।

নেপালের প্রতিনিধি সভার এক বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খিনাল জানান, সুগৌলি চুক্তির মূল কপি সরকারের হেফাজতে রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।

কাঠমান্ডু পোস্টের বরাতে জানা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্লামেন্টে বলেছেন, সরকারি চুক্তিটির মূল কপি সরকারের কাছে আছে কিনা সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। জাতীয় আর্কাইভে কিছু চুক্তির রেকর্ড রয়েছে, কিন্তু সেগুলোই আসল চুক্তি কিনা, তা বলা যাচ্ছে না।

তিনি জানান, ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি এবং ১৯৫০ সালের ভারত-নেপাল শান্তি ও মৈত্রী চুক্তির অনুলিপি সরকারের কাছে রয়েছে, তবে মূল কপিটি নিখোঁজ।

বর্তমান ভারত ও নেপালের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে এই চুক্তির ৫ নম্বর ধারা। চুক্তি অনুযায়ী, নেপাল ‘কালী’ বা ‘মহাকালী’ নদীর পশ্চিমের ভূমির ওপর থেকে সব দাবি ত্যাগ করে, যা নদীটিকে নেপালের পশ্চিম সীমান্ত হিসেবে নির্ধারণ করে। কিন্তু দুই শতাব্দী ধরে প্রশ্ন রয়ে গেছে—কালী নদীর উৎপত্তি ঠিক কোথায়?

নেপালের দাবি, নদীটির উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরায়। সেই হিসেবে লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি এবং লিপুলেখ নদীর পূর্বে অবস্থিত হওয়ায় এগুলো নেপালের অংশ।

পক্ষান্তরে ভারতের অবস্থান হলো, কালী নদীর উৎপত্তি লিপুলেখ অঞ্চলের নিচের একটি ঝরনা থেকে। ভারত তাদের প্রশাসনিক ও রাজস্ব রেকর্ড দেখিয়ে দাবি করে আসছে, কালাপানি ঐতিহাসিকভাবে অবিভক্ত উত্তরপ্রদেশের পিথোরাগড় জেলার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *